১৭ জুন ২০১৬ - ১২:৩৩
তেল ছাড়তে তেল মারছে সৌদি

তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে মার্কিনিদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব।

আবনা ডেস্ক : তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে মার্কিনিদের দ্বারস্থ হয়েছে সৌদি আরব।
পুরনো মিত্রতা আবারও মরাগেরো দেয়ার লক্ষ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে আছেন দেশটির ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান।
এ লক্ষ্যে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গেও তিনি সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এ ব্যাপারে রিপাবলিকান সিনেটর বব কোরকার বলেন, তেলবিহীন অর্থনীতি গড়ার প্রকল্প ভিশন ২০৩০ নিয়ে আলোচনা করেছেন মুহাম্মদ। সৌদি সংস্কৃতিকে বদলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। যদিও এটি অনেক কঠিন কাজ। তবে তারা অর্ধেক সফল হলেও সেটাও কম না। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরব।
রয়টার্সের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে জানা যায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে মার্কিন এমপিদের সঙ্গে বুধবার দিনব্যাপী বৈঠক করেছেন সৌদি যুবরাজ। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, হাউস স্পিকার পল রায়ান এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সিনেটর ববের বরাতে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি নিয়ে চিন্তায় আছে সৌদি আরব। আবার সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে বাশার আল আসাদকে পদচ্যুত করার জন্যও বারবার প্রেসিডেন্টকে চাপ দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ভূমিকা হ্রাসের ব্যাপারেও মার্কিনিদের কাছে তাদের আবদার।
অন্যদিকে ওয়ান-ইলেভেনে হামলাকারী সন্দেহে অন্য দেশ বা নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার দিয়ে একটি বিল পাস হয়েছে মার্কিন সিনেটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিলটি অনুমোদন দিলে গ্যাঁড়াকলে পড়তে পারে সৌদি আরব- এমন আশংকা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের যোগাযোগ বাড়ছে বলে দাবি রয়টার্সের।
তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা বিলটি অনুমোদনের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিআইএ’র পরিচালক জন ব্রেনান বলেছেন, টুইন টাওয়ার হামলাসংক্রান্ত ২৮ পৃষ্ঠার গোপন নথিতে সৌদি আরবের কাউকে দোষারোপ করা হয়নি। এর সঙ্গে সৌদির কোনো সম্পর্ক নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, টুইন টাওয়ার হামলায় অর্থায়নের অভিযোগ এবং ইয়েমেনে মানবাধিকার লংঘনের ইস্যুতে ক্ষয়িষ্ণু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উষ্ণ করতেই সফরের উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমানের এই প্রভাবশালী সন্তান। তবে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কের শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন তিনি।